ন্যায়দর্শনে শব্দপ্রমাণ ও জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP): জ্ঞান-সংরক্ষণ, প্রামাণ্যতা ও শিক্ষকের ভূমিকা
 
Chandrarekha Mahata
Ph. D. Scholar, Dept. Of Sanskrit
Midnapore College Research Centre in Humanities & Social Science
Midnapore, Paschim Medinipur, West Bengal, India
Email: chandearekha343@gmail.com
 
Abstract: ভারতীয় দর্শনচিন্তার দীর্ঘ পরম্পরায় ‘ন্যায়দর্শন’ বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এই ন্যায়শাস্ত্র হল “প্রদীপঃ সর্বশাস্ত্রাণাম্”। যুক্তিসিদ্ধ চিন্তা বা তর্কের পদ্ধতি তথা প্রমাণ নিরূপণ করাই হল ন্যায়দর্শনের প্রধান কাজ। ন্যায় দর্শন মোক্ষশাস্ত্র নামেও পরিচিত। জ্ঞানলাভের উপায় বা প্রমাণতত্ত্বের ক্ষেত্রে ন্যায়দর্শনের বিশ্লেষণ অত্যন্ত সুসংহত, যুক্তিপূর্ণ এবং পদ্ধতিবদ্ধ। অন্যদিকে, জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP-2020) আধুনিক ভারতীয় শিক্ষায় যে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে, তার মূল লক্ষ্য হলো— জ্ঞানসংরক্ষণ, ভারতীয় জ্ঞানপদ্ধতির পুনরুজ্জীবন (IKS), শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা (Critical Thinking) বৃদ্ধি ও শিক্ষককে ‘জ্ঞান-উৎস’ হিসেবে মর্যাদা প্রদান। এই ক্ষেত্রে ন্যায়দর্শনের শব্দপ্রমাণ (Śabda-pramāṇa) বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ— শব্দপ্রমাণ মূলত আপ্ত-বাক্য, অর্থাৎ বিশ্বস্ত শিক্ষক বা জ্ঞানীর বাণীকে জ্ঞানলাভের উপায় বলে গ্রহণ করা হয়। বৈদিক পরম্পরায় এই শব্দই চিরন্তন জ্ঞানবাহক। আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক, গ্রন্থ, প্রামাণ্য উৎস, তথ্যভিত্তিক শিক্ষণ সবই শব্দপ্রমাণের আধুনিক রূপ। IKS-এর আলোকে মৌখিক পরম্পরা, শাস্ত্র, স্মৃতি, মহাকাব্য সবই শব্দজ্ঞান নির্ভর। NEP-এই জ্ঞানভাণ্ডারকে নতুনভাবে শিক্ষাপদ্ধতিতে সমন্বিত করতে চায়। সেই জন্য ন্যায়দর্শনের শব্দপ্রমাণ NEP-এর জ্ঞান-দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এই গবেষণাপত্রে ন্যায়দর্শনের শব্দপ্রমাণের ব্যাখ্যা, উপাদান, প্রামাণ্যতা, ভারতীয় মৌখিক পরম্পরায় শব্দের ভূমিকা, IKS-এর সঙ্গে তার যুক্তি এবং আধুনিক শিক্ষানীতি NEP-এর সঙ্গে তার কার্যকর সম্পর্ক বিস্তারিতভাবে নিম্নে আলোচিত।

Keywords: ন্যায়দর্শন, শব্দপ্রমাণ, জাতীয় শিক্ষানীতি–২০২০, আপ্ত, ভারতীয় জ্ঞানপদ্ধতি।

Scroll to Top