ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরায় প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান ও পাঠদান
 
Kali Charan Das
Research Scholar
Central Sanskrit University
Janakpuri, New Delhi, Delhi, India
Email: kalicharansitalgram@gmail.com
 
Abstract: সাম্প্রতিককালে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি অনেকটাই উন্নত। বিজ্ঞানাবিষ্কৃত এই যন্ত্র মানুষকে পদে পদে সুখ এনে দিলেও যন্ত্রের যন্ত্রনা মানুষ কে উপভোগ করতে হয়। প্রাচীনযুগেও বিজ্ঞান উন্নত ছিল, তবে তা অনেকাংশে দূষণমুক্ত। এখনকার মত দূষণযুক্ত নয়। প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও নেভিগেশনের জন্য অ্যাস্ট্রোল্যাব, আর্মিলারি স্ফিয়ার, সেক্সট্যান্ট, অ্যাস্ট্যাটিক সূঁচের মত যন্ত্র ব্যবহৃত হত, যা তারা ও গ্রহের অবস্থান নির্ণয়ে সাহায্য করত। এছাড়া আর্কিমিডিসের স্ক্রু জল নিষ্কাশনে এবং তুলা যন্ত্র ও স্প্রিং নিক্তি ভর ও ওজন পরিমাপ করত, যা আধুনিক যন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এছাড়া তাপমাত্রা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত হতো থার্মোমিটার, অতি ক্ষুদ্র বস্তু দেখার জন্য ব্যবহৃত হতো মাইক্রোস্কোপ। এই যন্ত্রগুলো প্রাচীন সভ্যতার জ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নত নিদর্শন, যা আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করেছে। প্রাচীনযুগের বিমান শাস্ত্র থেকে জানা যায় বিমান প্রযুক্তি ও বেশ উন্নত ছিল। প্রাচীন বিশ্বের বিজ্ঞান প্রাগৈতিহাসিক যুগের আদি বিজ্ঞান এবং প্রাচীন ইতিহাসের শেষের দিকের বিজ্ঞানের ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রাচীনকালে, সংস্কৃতি এবং জ্ঞান মৌখিক ঐতিহ্যের মাধ্যমে প্রেরণ করা হতো। লেখার বিকাশ জ্ঞান এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণকে আরও সক্ষম করে তোলে, তথ্য সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। সে সময় বিজ্ঞানের ঐতিহ্যগুলি প্রাচীন পারস্য, গ্রীস, রোম, ভারত, চীন, আমেরিকাতে উন্নত হয়েছিল। প্রাচীন বিশ্বের সভ্যতাগুলি আধুনিক বিজ্ঞানের শিকড় স্থাপন করেছিল। পুরাকালে শিক্ষাকেন্দ্র ছিল গুরুকুল। গুরুর নিকট বসে সমস্ত শিক্ষা অর্জন করত শিষ্যরা তথা ছাত্ররা। গুরুকুলে বিজ্ঞান পাঠদান ছিল ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, মৌখিক শিক্ষা এবং শাস্ত্রীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে, যেখানে গণিত (বীজগণিত, জ্যামিতি), জ্যোতির্বিদ্যা, আয়ুর্বেদ (চিকিৎসা), সংস্কৃত ব্যাকরণ, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থশাস্ত্র, যোগ, ধনুর্বেদ (যুদ্ধবিদ্যা), প্রাকৃতিক বিজ্ঞান পড়ানো হত, যা ছাত্রদের সামগ্রিক বিকাশ ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের উপর জোর দিত। আর্যভট্টের শূন্যের এবং পাই এর মান আবিষ্কার, ব্রহ্মগুপ্তের বীজগণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার অবদান, ভাস্করাচার্যের গাণিতিক অবদান, বৌধায়নের বিজ্ঞানচেতনা, চিকিৎসা ও রসায়নের ক্ষেত্রে চরক, সুশ্রুত, নাগার্জুন, পরমাণুবাদের জনক মহামুনি কণাদ, বরাহমিহির এর গাণিতিক অবদান, এ সবকিছুর কাছে আমরা আজও অত্যন্ত ঋণী। বর্তমান ভারতে এই জ্ঞান পরম্পরা এখনও অব্যাহত। শিক্ষাকেন্দ্র গুলি ডিজিট্যাল, এবং প্রযুক্তিগত ভাবে সমৃদ্ধ। তাই যুগানুযায়ী তার গতিপ্রবাহ উন্নত থেকে উন্নতের দিকে ক্রমবর্ধমান।

Keywords: গুরুকুল, জ্ঞান-বিজ্ঞান পরম্পরা, প্রাচীন বৈজ্ঞানিক, আবিষ্কৃত বিভিন্ন বস্তু, যোগবিজ্ঞান, বাস্তুবিদ্যা, শিল্পবিজ্ঞান।

Scroll to Top