স্বামী বিবেকানন্দের সর্বধর্ম সমন্বয় ভাবনা

Author(s): Dr. Trina Das
Assistant Professor
Dept. of Sanskrit
Bhatter College, Dantan (Autonomous)
Dantan, Paschim Medinipur, West Bengal, India
Email: trina.sanskrit95@gmail.com
Page no: 306-310

Abstract: স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মকে সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রাখতে চাননি। তিনি ধর্মকে সমাজ ও সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে স্থাপন করে একটি বিশ্বজনীন ধর্ম প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ধর্ম শুধু কিছু আচার-অনুষ্ঠান বা কুসংস্কারের সমষ্টি নয়, বরং তা হলো মানুষের মধ্যে নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রেম জাগিয়ে তোলার একটি মাধ্যম।
তিনি বিশ্বাস করতেন, সকল ধর্মের মূল লক্ষ্য এক, যদিও পথ ভিন্ন। যেমন বিভিন্ন নদী শেষ পর্যন্ত একই সমুদ্রে মেশে, তেমনি বিভিন্ন ধর্মমতও একই ঈশ্বরের দিকে ধাবিত হয়। তাঁর মতে, কোনো একটি বিশেষ ধর্ম অন্যটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, বরং সব ধর্মই নিজ নিজ অবস্থানে সত্য। তাই তিনি অন্য ধর্মকে ঘৃণা না করে, বরং তার থেকে ভালো দিকগুলো আত্মস্থ করে নিজ ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথা বলেন।
বিবেকানন্দের সর্বজনীন ধর্মের মূল কথা হলো মানবতা, সেবা, এবং প্রেম। তিনি বলেন, ‘পরোপকারই ধর্ম, পরপীড়নই পাপ’। এই ধর্ম মানুষকে ভেদাভেদ ভুলে একসূত্রে বাঁধে, যা কোনো নির্দিষ্ট জাতি, ধর্ম বা বর্ণের নয়, বরং সকলের জন্য উন্মুক্ত। তিনি মনে করতেন, সত্যিকারের ধর্ম মানুষকে দুর্বল করে না, বরং তাকে শক্তি ও সাহস জোগায়। বিবেকানন্দের এই ভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক, যা মানুষকে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও হিংসা ত্যাগ করে একতা ও ভালোবাসার পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।

Keywords: সর্বধর্ম সমন্বয়, বিশ্বজনীন ধর্ম, মানবতা ও সেবা, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, আধ্যাত্মিকতা।
Scroll to Top