অসংগঠিত বিড়ি শিল্পে নিযুক্ত নারীদের জন্য ‘ক্ষমতায়ন’ধারণার প্রাসঙ্গিকতা : উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া ব্লকের নির্বাচিত গ্রামভিত্তিকএকটি সমাজতাত্ত্বিক সমীক্ষা
Author(s): Smt. Priyanka Gupta Assistant Professor Dept. of Sociology Khejuri College Purba Medinipur, West Bengal, India Email: priyanka199269@gmail.com Page no: 342-352
Abstract: উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে ভারতবর্ষে কৃষি ও বস্ত্রশিল্পের পরেই বিড়ি শিল্প একটি অন্যতম বৃহত্তম অসংগঠিত খাত হিসেবে চিহ্নিত। Economic Survey ২০০৭-০৮ –এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৭৫ লক্ষ শ্রমিক এই শিল্পে নিযুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই নারী। স্থানীয় প্রেক্ষাপটে বিড়ি বাঁধার কাজকে প্রথাগতভাবে “নারীর কাজ”হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও, মালিকানা, ঠিকাদারি ও বিপণন ক্ষেত্র সম্পূর্ণরূপে পুরুষের অধীনে। ফলত, এই পুরুষ-প্রধান শিল্পে নারীরা নিয়মিতভাবে বঞ্চনা, বৈষম্য ও হয়রানির বহুবিধ রূপের সম্মুখীন হন। অতএব, নারী বিড়ি শ্রমিকদের ক্ষমতায়ন এবং পারিবারিক পরিসরে তাঁদের অবস্থান সমাজতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বর্তমান অধ্যয়নের উদ্দেশ্য ছিলো, এই শ্রমজীবী নারীদের মধ্যে গার্হস্থ্য সহিংসতার ব্যাপকতা নিরূপণ করা এবং তাঁদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা আছে কি না তা বিশ্লেষণ করা। এ জন্য দুটি প্রধান মানদণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে, তা হল- নারী বিড়ি শ্রমিকদের মধ্যে গার্হস্থ্য সহিংসতার প্রাদুর্ভাব এবং তাঁদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা। গবেষণার ফলাফল থেকে প্রতীয়মান যে, নারী বিড়ি শ্রমিকদের পারিবারিক অবস্থান মোটেও সন্তোষজনক নয়। অধ্যয়নভূক্ত মোট ৪০ জন উত্তরদাতার মধ্যে উল্লিখিত দুটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখাগেছে যথাক্রমে ১৯ জন বিভিন্ন কারণে গার্হস্থ্য সহিংসতার শিকার এবং ৩৭ জন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিবাহ, সন্তানের শিক্ষা ও তাঁদের বিবাহ ইত্যাদি মৌলিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত। সুতরাং, নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের বাস্তব রূপায়ণের জন্য শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা এবং আইনি ও নীতিগত সুরক্ষা অপরিহার্য।
Keywords: অসংগঠিত খাত, বিড়ি শিল্প, নারী শ্রমিক, ক্ষমতায়ন, গার্হস্থ্য সহিংসতা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামাজিক কাঠামো।