বালগঙ্গাধর তিলকের গীতারহস্য ও অনুবাদক জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
Author(s): Dibyendu Chattopadhyay Research Scholar Dept. of Sanskrit, Pali & Prakrit Visva Bharati University Shantiniketan, West Bengal, India Email: namastedibyendu@gmail.com Page no: 373-378
Abstract: মহাভারতের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে বেদনাহত কিংকর্তব্যবিমূঢ় অর্জুনকে ক্ষত্রিয়জনোচিত যুদ্ধকর্মে প্রবৃত্ত করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণের অমৃতময়ী বানী ভগবদ্গীতা বিধৃত। জাতি,ধর্ম নির্বিশেষে ভারতীয়দের কাছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পরম সমাদৃত। উপনিষদসাহিত্যকে রবীন্দ্রনাথ ভারতের ব্রহ্মজ্ঞানের বনস্পতিরূপে বর্ণনা করেছেন। গীতা সেই উপনিষদের সারাংশ ও সর্বজনবোধ্য। শুধু ভারতে নয়, বহির্ভারতেও বহুমনীষী গীতার উচ্ছসিত প্রশংসা করেছেন এবং অতিশ্রদ্ধার সঙ্গে গীতা অনুবাদ করেছেন, ব্যাখ্যা করেছেন এবং নানাভাবে গীতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয় মহামনীষী বালগঙ্গাধর তিলকের জীবনে গীতার প্রভাব এবং জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিশাল গ্রন্থে অনুবাদের বিপুল প্রয়াস। ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গীতার প্রভাব ছিল অপরিসীম। আমরা জানি সুভাষ চন্দ্র বোস, ক্ষুদিরাম, ভগৎ সিং এবং অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধার এই গ্রন্থটি অবশ্য পাঠ্য ছিল। গ্রন্থটি তাঁরা সর্বদাই নিজের সঙ্গে রাখতেন। কারণ এই গ্রন্থে ছিল জীবনের শক্তিমন্ত্র। মনীষী বালগঙ্গাধরের সম্পূর্ণ কণ্ঠস্থ ছিল গীতাগ্রন্থ। মান্দালয় কারাগারে একটি বিভীষিকাময় পরিবশে তিলক যখন ইংরেজদের হাতে বন্দী ছিলেন তখনই তিনি রচনা করছিলেন কালজয়ী গ্রন্থ গীতারহস্য বা কর্মযোগশাস্ত্র। এই গ্রন্থ রচনাকালে তিনি মূলগীতা বা কোন ভাষ্যই পাননি। সম্পূর্ণ স্মৃতি থেকেই রচনা করেন গ্রন্থটি। তিলকের মতে অধিকাংশ ভাষ্যই একদেশদর্শী। তাই তিনি এরকম একটি ভাষ্যের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করেন। আজীবন ভারতবর্ষের মুক্তিযোদ্ধা স্বয়ং কর্মযোগী তিলক গীতাকে কর্মযোগের দৃষ্টিতেই ব্যাখ্যা করেন। গীতায় বলা হয়েছে কর্মের গতি কঠিন। শুধু তাই নয় কর্মের বন্ধও কঠিন- ‘गहना कर्मणो गतिः’ (শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 4/17)। কর্মের রহস্যকে তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। মহামান্য তিলক গ্রন্থটি মাহারাষ্ট্রী ভাষায় রচনা করেন। পরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি বাংলায় অনুবাদ করে অগণিত বঙ্গবাসীকে উপকৃত করেন। এই ভাষ্য রচনার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মানবসমাজকে কর্মযোগে উদ্বুদ্ধ করা। এই প্রসঙ্গে তিনি জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগের ব্যাখ্যাও করেন এবং সকল পন্থার মধ্যে একটি সমন্বয় সাধনের প্রয়াস করেন। এই ক্ষুদ্র প্রবন্ধে সংক্ষেপে তিলকের ব্যাখ্যা ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথের গীতা রহস্য উদঘাটনের প্রয়াস অতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হবে।