Author(s): Abhirup Choubey Research Scholar Dept. of Sanskrit, Pali & Prakrit Visva Bharati University Santiniketan, Bolpur, West Bengal, India Email: abhirupchoubey01@gmail.com Page no: 407-411
Abstract: শোধপ্রবন্ধটি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার একটি সামগ্রিক পরিচয় দিয়ে শুরু হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং এটি মানবজাতির জন্য এক অমোঘ সাধন এবং উপনিষদের নির্যাস। এটি জ্ঞান, ভক্তি এবং কর্মের সমন্বয় সাধনকারী এক অনন্য গ্রন্থ। শোধপ্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গীতা ভারতের অনেক মহান ব্যক্তিত্ব যেমন স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী অরবিন্দ, মহাত্মা গান্ধী এবং সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। শোধপ্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য হলো যুগাবতার শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের মননে গীতার প্রভাব। শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর ‘কথামৃত’-এর মাধ্যমে গীতার সারমর্মকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তি—এই তিনটি পথকেই ঈশ্বরলাভের উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তবে কলিযুগের জন্য ভক্তিযোগকে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরী বলে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, শুধু পাণ্ডিত্য বা শাস্ত্র পাঠ করে ঈশ্বরকে লাভ করা যায় না, বরং ব্যাকুল হয়ে ভক্তির সাগরে ডুব দিতে হয়। রামকৃষ্ণদেব গীতার ‘গীতা’ নামকে দশবার উচ্চারণ করলে ‘ত্যাগী’ শব্দটির ধ্বনি আসে বলে ব্যাখ্যা করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি গীতার মূল বার্তাটি তুলে ধরেছেন—সমস্ত কামনা-বাসনা ত্যাগ করে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা। তিনি দেখিয়েছেন যে জ্ঞান, কর্ম এবং ভক্তি পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি আরেকটির পরিপূরক।