Dr. Sonali Mukherjee Assistant Professor, Dept. of Sanskrit Seva Bharati Mahavidyalaya, Jhargram, West Bengal, India Email: sonali.sans.19@gmail.com
Abstract: সংস্কৃতসাহিত্য ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। মানব- মনীষার উচ্চস্তরের প্রায় সমস্ত চিন্তাভাবনাগুলিই সংস্কৃতভাষায় বিধৃত হয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে বিশালায়তন এই সংস্কৃতশাস্ত্রে কিভাবে রাষ্ট্রনীতিমূলক আলোচনার পরিপুষ্টি ঘটেছে সেই বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। অন্যান্য শাস্ত্রের ন্যায় সংস্কৃত রাষ্ট্রনীতির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বেদে। তত্কালীন রাষ্ট্রনীতি এবং বর্তমানে রাষ্ট্রনীতি এক নয়। সেযুগে রাজার উত্পত্তি এবং তার অনুসৃত নীতি, রাজ্যকে বশীভূত রাখার বিবিধ পন্থা ছিল রাষ্ট্রনীতির মূল মন্ত্র। অনুরক্ত। রাজার অবলম্বন করা যে সব নীতিগুলি প্রজাদের রাজানুরক্তির কারণ সেই সব নীতির প্রণয়ন ও বিশ্লেষণই দন্ডনীতির প্রতিপাদ্য বিষয়। রাজা রাষ্ট্র প্রভৃতির স্পষ্ট ধারণা ঋগ্বেদে ছিল। রাজপদ নির্বাচনসাপেক্ষ এবং বংশানুক্রমিক – এই উভয়মতই বেদে লভ্য। অথর্ববেদে যেমন রাজার নির্বাচনের কথা আছে। তারও পরবর্তী ধর্মশাস্ত্রের যুগে রাজপদকে দেবদৃষ্ট বলে ঘোষণা করে তাকে বংশানুক্রমিক রূপে প্রদর্শন করা হয়েছে। বৈদিক যুগের পরে রামায়ণ ও মহাভারতের যুগে রাষ্ট্রনীতি তথা দণ্ডনীতিচিন্তা আরো বিস্তৃতি লাভ করে। রামচন্দ্রের চিত্রকূটে অবস্থানকালে ভরত যখন তাকে ফিরিয়ে আনতে যান, তখন রামচন্দ্র তাকে যে উপদেশ দেন তা রাষ্ট্রনীতিমূলক তাৎপর্যে পরিপূর্ণ। মহাভারতের ভান্ডারে সবকিছুই রক্ষিত। এখানে অন্যান্য সমস্ত ধর্মের মধ্যে রাজধর্মকে বা দণ্ডনীতিকে শ্রেষ্ঠধর্ম বলা হয়েছে। রাষ্ট্রনীতিমূলক তত্ত্ব পরিপুষ্টি লাভ করেছে মহাভারতের সভাপর্বে যুধিষ্ঠিরের প্রতি নারদের রাজধর্মের উপদেশ, আশ্রমবাসিক পর্বের পঞ্চম অধ্যায়ে ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে যুধিষ্ঠিরের রাজনৈতিক আলোচনায়। মহাভারতের রাজধর্মপর্বের ৫৯ তম অধ্যায়ে ‘পৈতামহ তন্ত্র’ নামক ভারতীয় দণ্ডনীতির উপর রচিত প্রাচীন গ্রন্থটির উল্লেখ পাওয়া যায়। সংস্কৃত স্মৃতিশাস্ত্রগুলির মধ্যে রাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হল কৌটিল্যপ্রণীত অর্থশাস্ত্র। অর্থশাস্ত্র কিন্তু অর্থনীতি বিষয়ক শাস্ত্র নয়। কৌটিল্যের রাষ্ট্রনীতি বর্ণাশ্রম ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত। কৌটিল্যের রাজনীতিতে স্বেচ্ছাচারিতার কোনো অবকাশ ছিল না। দেওয়ানী এবং ফৌজদারী মামলার সর্বাধ্যক্ষ হিসেবে রাজাই গণ্য হতেন। বিচারের ক্ষেত্রে অপরাধীকে শাস্তিস্বরূপ দণ্ড দেওয়ার রীতি ছিল। শুক্রাচার্য রাষ্ট্রনীতি চিন্তাকে সুসংহত রূপে শুক্রনীতিসার গ্রন্থ রচনা করেন। প্রজাদের বশীভূত করার উপায়, উপায়চতুষ্টয়, ষাড়গুণ্য প্রভৃতি রাজনীতিমূলক বিষয়ের আলোচনা রয়েছে। প্রাচীন ভারতের রাজনীতি বা দণ্ডনীতি হল আধুনিক যুগের রাষ্ট্রনীতি বা রাষ্ট্রবিজ্ঞান। ভারতীয় রাজনীতির আলোচনা প্রসঙ্গে স্মৃতিশাস্ত্রগুলি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। মনুসংহিতার সপ্তম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু রাজধর্ম। যাজ্ঞবল্ক্যসংহিতার ব্যবহার অধ্যায় রাজনৈতিক আলোচনায় সমৃদ্ধ। এই আলোচনার ধারা বৈদিক এবং স্মৃতি শাস্ত্রের অধ্যায় পেরিয়ে লৌকিক সংস্কৃতসাহিত্যের আলোচনায় মহাকাব্যগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবহমান।