59. নাস্তিক দর্শনে চৈতন্যচর্চা:চার্বাক,বৌদ্ধ ও জৈন
Tapan Ruidas Ex-Research Scholar, Ramakrishna Mission Vidyamandira, Belur Math SACT, Dr. Bhupendra Nath Dutta Smriti Mahavidyalaya, Purba Bardhaman, West Bengal, India Email: ruidastapan74@gmail.com
Abstract: আমার এই পত্রিকায় উপস্থাপিত বিষয় হিসাবে স্থান পেয়েছে নাস্তিক দর্শনে চৈতন্য চর্চা। মূলত ভারতীয় দর্শনে চার্বাক, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের আত্মা বা চৈতন্যের স্বরূপ সম্পর্কে তুলনামূলক আলোচনার বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। চার্বাক দর্শনে দেহের অতিরিক্ত আত্মা স্বীকার করা হয়নি। তাঁদের নিকট দেহ টাই আত্মা। অর্থাৎ চৈতন্য বিশিষ্ট দেহই আত্মা রূপে স্বীকৃত। তবে চার্বাকরা চৈতন্যকে আত্মার গুণ রূপে গ্রহণ করেননি। চৈতন্যকে দেহের গুণ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। জগতের চারটি মৌলিক উপাদান ক্ষিতি, অপ, তেজ ও মরুৎ নিজেরদের স্বভাব অনুসারে সংমিশ্রিত হলে দেহে চৈতন্যের উৎপত্তি হয়। অন্যদিকে, বৌদ্ধ দর্শনে চার্বাক দর্শনের ন্যায় চৈতন্য বিশিষ্ট দেহই আত্মা—এই রূপ মত স্বীকার করা হয়নি। তাঁদের মতে, আত্মা নিত্য নয়, কারণ তা চিরন্তন স্থায়ী নয়। তা পরিবর্তনশীল, অনিত্য। বলা হয়েছে যে, আত্মা হল পঞ্চস্কন্ধের সমষ্টি। রূপ (দেহ), বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান (চৈতন্য) প্রভৃতি হল পঞ্চস্কন্ধ। এছাড়া জৈন দর্শনে বলা হয়েছে, জীবই হল আত্মা। অর্থাৎ জীব ও আত্মা এক ও অভিন্ন। তবে জৈন দর্শনে দেহের অতিরিক্ত আত্মাকে স্বীকার করা হয়েছে। যা নিত্য ও অবিনাশী। এবং চৈতন্য দেহের গুণ নয়, তা আত্মার স্বরূপ ধর্ম। জৈন মতে, দ্রব্য দুই প্রকার। অস্তিকায় ও অনস্তিকায় দ্রব্য। অস্তিকায় দ্রব্য আবার দুই প্রকার জীব ও অজীব। এই চেতনা বিশিষ্ট জীবই আত্মা।