প্রান্তিকের রবীন্দ্রনাথ ও নিরাসক্ত নির্মমের দূত :  এক ব্যতিক্রমী পুস্তিকার নিবিড় পাঠ 

Author(s): Pijus Kumar Mondal
Assistant Teacher 
Kharinan High School
Purba Bardhaman,West Bengal,India
Email: 2014pijuskm@gmail.com
Page no: 379-391

Abstract: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১খ্রিঃ—১৯৪১ খ্রিঃ) নিরাসক্ত নির্মমের দেশে মহাপ্রস্থান করেছেন— সেও প্রায় আট দশক অতিক্রান্ত হয়ে গেল। কিন্তু রবীন্দ্রসাহিত্যের প্রতি পাঠকের মোহ-আবরণ আজও রয়ে গেছে। তাঁর সাহিত্যে আপামর সাহিত্যপ্রেমী খুঁজে পেয়েছেন প্রাণের আরাম, মনের শান্তি। তাই সাহিত্যগুলিও কালের প্রবহমানতায় নিত্য সমুজ্জ্বল হয়ে ওঠেছে। সময়ের অনুবর্তনে নতুন নতুন ভাবনায় ভাবিত হয়ে আরও গভীর অনুভবের বিষয় হয়ে ওঠে তাঁর সাহিত্যের মালঞ্চ। তিনিও হয়ে ওঠেন সর্বকালে সমভাবে প্রাসঙ্গিক। ‘প্রান্তিক’ কাব্যটিকে রবীন্দ্রকাব্যধারার এক ব্যতিক্রমী ফসল বলা যেতেই পারে। কবি ২৫শে সেপ্টেম্বর ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে হতচেতন হয়ে পড়ার দিন-দুই পরে ক্রমে ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। এই কাব্যটিতে কবির সেই হতচৈতন্যলোক থেকে চেতন জগতে প্রত্যাবর্তনের মধ্যবর্তী সময়ের আত্মানুভূতির ভাষারূপ লিপিবদ্ধ হয়েছে। সেই নিঃসঙ্গের দেশ, জ্যোতির্ময়লোকের কথা ‘প্রান্তিক’-এ বলার প্রয়াস রয়েছে—যা সমগ্র বিশ্বসাহিত্যে আছে কি না সন্দেহ। বিশ্ববন্দিত সাধকের উপলব্ধি কবি হয়তো শব্দব্রহ্মে রূপদানের চেষ্টা করে গেছেন ‘প্রান্তিক’-এর কবিতা থেকে কবিতায়। কিন্তু তাঁর কাছে শুধু দ্যুলোক মধুময় হতে পারে না; তিনি তো ভূলোকেরও কবি।তাই মধুময় হয়ে ওঠে পৃথিবীর ধূলি। ‘প্রান্তিক’-এর শেষ দুই কবিতায় মর্ত্যভূমে নরকাগ্নিগিরিগহ্বরের সম্মুখে সমাসীন হয়ে বজ্রকণ্ঠে শিশুঘাতী, নারীঘাতী শক্তির বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। শান্তিকামী মানুষের কাছে সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন; সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সরিয়ে রেখে। একটি ক্ষুদ্র কাব্যপুস্তিকার ছোটোমাপের কয়েকটি কবিতার মধ্যে এই বৈপরীত্য রবীন্দ্রনাথেই সম্ভব।সমগ্র রচনাটিতে রবীন্দ্রমননের সেই অভূতপূর্ব অনুভব—যা আমাদের বোধ-সত্তার উত্তরণের পথরেখা প্রস্তুত করে তা-ই অনুসন্ধানের প্রয়াস রয়েছে।

Keywords: ভাববীজ, হতচৈতন্যলোক, নিরাসক্ত নির্মম, দ্রাবক-রস, জীবনতত্ত্ব, নবজীবনলাভ, বিশ্বব্যবস্থা, বৈশ্বিক অশান্তি।

Scroll to Top