Arnab Bandyopadhyay Assistant Professor Pijush Kanti Mukherjee Mahavidyalaya Sonapur, Alipurduar, West Bengal, India Email: ghantanotfound555@gmail.com
Abstract: বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট কাব্য-নাটকাদিতে ঔপনিষদিক ভাবধারা সুস্পষ্টরূপে পরিদৃষ্ট হয়। বৈদিক ঋষি-কবির কণ্ঠের ঔপনিষাদিক বাণীকেই রবীন্দ্রনাথ তার সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠা করে গেছেন প্রকৃত উত্তরসূরীরূপে। ‘অচলায়তন’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটকগুলির মধ্যে কালজয়ী ও স্বতন্ত্রতায় ভাস্বর। অচলায়তন নাটকটি রূপকধর্মী হলেও এখানে সুস্পষ্ট একটি গল্প আছে। অচলায়তন নাটকে যে গানগুলি ব্যবহৃত হয়েছে সেগুলিতে আপাত আক্ষরিক সরল বাণীর অন্তরালে গভীর ঔপনিষদিক অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্যণীয়। নাটকের প্রধান চরিত্র পঞ্চক বজ্রবিদারণ মন্ত্রের “ওঁ তট তট তোতয় তোতয় …”প্রভৃতি মন্ত্রের সম্পূর্ণ রপ্ত করতে পারে নি, যা কিনা বিগত সাত দিন ধরে সে কেবল অভ্যাসই করে চলেছে। আসলে আয়তনের সমস্ত শিষ্য যেখানে ভয়ে ভক্তিতে পিপীলিকাবৎ সারিবদ্ধভাবে আচারের নিয়ম পালনে একনিষ্ঠ ভাব দেখায়, পঞ্চক সেখানে সেই আচারকেই কুঠারাঘাত করার জন্য সততা চেষ্টাশীল। বস্তুত পঞ্চক চরিত্রকে প্রথাগত সামাজিক আচার-বিচারের কঠোর অনুশাসন অনুলিপ্ত করতে পারেনি। তাই সে সবসময়ই আয়তনের দুর্ভেদ্য প্রাচীনকে লঙ্ঘন করার জন্য সতত চেষ্টাশীল থেকেছে এবং ভয়কে জয় করে রচনা করেছে মুক্তির জয়গাথা। ধর্মকে প্রকাশ করার জন্য আচারের সৃষ্টি। কিন্তু আচার সংস্কারগুলি ধর্ম নামক বটবৃক্ষের শাখা সদৃশভাবে অবস্থান করলেই তা সর্বতোভাবে হিতকর।