63. ভারতের জাতীয় শিক্ষানীতি তে ভাষার গুরুত্ব: একটি পর্যালোচনা

Anuradha Ghosh
SACT-1, Dept. of Political Science 
Berhampore Girls’ College, Murshidabad, West Bengal, India
Email: anuradhaghosh76@gmail.com

Abstract: স্বাধীন ভারতে, সংবিধানের অষ্টম তফসিল ২২টি ভাষাকে স্বীকৃতি দিলেও, আজও কোনো সর্বজনীন জাতীয় ভাষা নেই। সংবিধানের ধারা ৩৪৩ থেকে ৩৫১(A) সরকারি ভাষা সম্পর্কে আলোচনা করে এবং বিশেষত মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা প্রদানের কথা বলে। শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোঠারি কমিশন (১৯৬৪-৬৬) একটি যুগান্তকারী ভূমিকা নেয়, যার ফলস্বরূপ ১৯৬৮ সালে প্রথম জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হয় এবং ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ প্রবর্তিত হয়। এই নীতি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা প্রথম ভাষা হিসেবে মাতৃভাষা/আঞ্চলিক ভাষা, দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজি এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দি বা একটি আঞ্চলিক ভাষা শিখবে। তবে হিন্দি-অহিন্দি রাজ্যগুলির মধ্যে বাস্তবায়ন এবং ভাষাগত সংখ্যালঘুদের সমস্যার কারণে এই নীতির ব্যাপক সমালোচনা হয়। ২০২০ সালের তৃতীয় জাতীয় শিক্ষানীতিতে (NEP ২০২০) ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’ বহাল থাকলেও নমনীয়তা আনা হয়। এতে কমপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় শিক্ষাদান-এর উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয় এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাষা শিক্ষাকে জনপ্রিয় করার কথা বলা হয়। উচ্চ শিক্ষাতেও আঞ্চলিক ভাষার প্রসারের নীতি গৃহীত হয়েছে। উপসংহারে বলা হয়েছে যে আঞ্চলিক ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও, ‘ত্রি-ভাষা সূত্র’-এর সঠিক এবং নমনীয় প্রয়োগের মাধ্যমে ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং জাতীয় সংহতি বজায় রাখা সম্ভব।

Keywords: জাতীয় শিক্ষানীতি, ত্রি-ভাষা সূত্র, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, ভাষাগত বৈচিত্র্য, আঞ্চলিক ভাষা
Scroll to Top