সময় ভুললেও সাহিত্যে অমলিন: আলোর অপেক্ষায় একটি নাম — বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার
Author(s): Avijit Mandal Research Scholar, Dept. o Literature Rashtriya Sanskrit Vidyapeetha, Tirupati Email: avijitmandal2402@gmail.com Page no: 188-196
Abstract: সপ্তদশ শতকের বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যে কিছু কিছু নাম ইতিহাসের ধুলোয় প্রায় বিলীন হলেও, তাদের কৃতিত্ব চিরকালীন। তেমনই এক বিস্মৃতপ্রায় অথচ ব্যতিক্রমী প্রতিভার নাম—মহাকবি বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার —যার সাহিত্যসৃষ্টি সমসাময়িক সমাজে গভীর ছাপ ফেললেও ইতিহাসের মূলধারায় তার পরিচয় ক্রমশ ক্ষীণ হয়েছে। তিনি শুধু কবি ছিলেন না; ছিলেন এক জ্যোতিষ্কপ্রতিম পণ্ডিত—সভাসদ, যার সাধনার দীপ্তি ছড়িয়ে ছিল সাহিত্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির বিস্তৃত আকাশজুড়ে। বাংলার নবজাগরণের পূর্বভাগে যাঁরা আলোকপ্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন, বাণেশ্বর ছিলেন সেই ঋত্বিকদের অন্যতম। ১৬৬৫ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার গুপ্তিপাড়া গ্রামের সুখ্যাত শোভাকর বংশে জন্ম। পিতা রামদেব তর্কবাগীশ, পিতামহ বিষ্ণু সিদ্ধান্ত ভট্টাচার্য এবং পূর্বপুরুষগণ সকলেই ছিলেন শাস্ত্রজ্ঞ, কাব্যপ্রিয় ও ন্যায়জ্ঞ। বাল্যকাল থেকেই বাণেশ্বর অসাধারণ মেধা ও ঈশ্বরভাবনায় পরিপূর্ণ ছিলেন। তার জ্ঞানার্জনের পথ ছিল ধ্রুপদী, পিতার নিকট শিক্ষালাভ, স্বপ্নদৃষ্ট ধর্মীয় দীক্ষা এবং তপস্যাজনিত সিদ্ধির মাধ্যমে পাণ্ডিত্য অর্জন। তাঁর শিক্ষাজীবন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সীমিত। কিংবদন্তি অনুসারে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি নবদ্বীপাধিপতি কৃষ্ণচন্দ্র রায়, বর্ধমান রাজ চিত্রসেন এবং কলকাতার নবকৃষ্ণদেবের রাজসভায় শ্রদ্ধার সঙ্গে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর রচনার মধ্যে “চিত্রচম্পূ”, “বিবাদার্ণবসেতু”, “রহস্যামৃত”, “চন্দ্রাভিষেক”, “দেবীস্তোত্র” প্রভৃতি গ্রন্থ বিশেষভাবে উল্লেখ্য। বাণেশ্বরের কাব্যরীতি অলংকারময়, ভাবপ্রবণ এবং ছন্দ – ভাষার সৌন্দর্যে ভাস্বর। Keywords: বাণেশ্বর বিদ্যালঙ্কার, শোভাকর বংশ, সাহিত্য ও শিক্ষা, নবদ্বীপাধিপতি কৃষ্ণচন্দ্র রায়, ধর্মীয় স্তোত্র রচনা।