রামকুমার মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস: বাঁকুড়ার জনজীবন ও সংস্কৃতির চালচিত্র
Author(s): Dr. Arup Palmal Assistant Professor Dept. of Bengali & literature Govt. General Degree College Gopiballavpur-II Beliaberah, Jhargram, West Bengal, India Email: arup.palmal1984@gmail.com Page no: 299-305
Abstract: বাঙলা উপন্যাস সাহিত্যের ইতিহাসে রামকুমার মুখোপাধ্যায় বর্তমানে এক উজ্জ্বল নাম। তিনি অন্ত্যজ মানুষকে নিয়ে যে গল্প-উপন্যাস লিখেছেন তা কথাসাহিত্যের সৃজন-বিশ্বে একেবারেই ভিন্ন স্বর-স্বরান্তের ব্যঞ্জনা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের অন্তর্গত বাঁকুড়া জেলার জনজীবন এবং সংস্কৃতির ধারক ও বাহকমূলক উপন্যাসগুলি আমাদের আলোচ্য প্রবন্ধের বিষয়। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘চারণে প্রান্তরে (১৯৯৩) গরুর পাল নিয়ে মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়ানো রাখালিয়া জীবন নিয়ে রচিত এই উপন্যাস। একটি বা দুটি শিশুর সারল্যমধুর ছেলেবেলা থেকে বয়ঃপ্রাপ্তির রুঢ় পৃথিবীতে উত্তরণের বৃত্তান্ত। আবার, উপন্যাসটি স্বাধীনতা-উত্তর ভারতবর্ষের গ্রাম ও গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রাগত পরিবর্তন ও অপরিবর্তনের নথি। বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার প্রাপ্ত ‘দুখে কেওড়া’ (২০০২) রামকুমার মুখোপাধ্যায়ের অভিনব উপন্যাস। পুরো উপন্যাসটি দুখের সংলাপ দিয়ে গড়া। দুখে কেওড়ার আয়নায় রামকুমার ঘুরিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং আরও কতো কিছুর উদ্ভট মূর্তি। ভবদীয় নঙ্গরচন্দ্র’ (২০০৬) রামকুমার মুখোপাধ্যায়ের উজ্জ্বল সৃষ্টি। বস্তুতপক্ষে এটি একটি পত্র আখ্যান। তারাশঙ্করের পরে যাঁদের কথাসাহিত্যে অন্ত্যজ মানুষের কথা বিশেষভাবে উচ্চারিত হয়েছে তাদের মধ্যে একজন অবশ্যই রামকুমার মুখোপাধ্যায়। তাঁর উপন্যাসে লোকসংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতির যে পরিচয় উঠে এসেছে তা লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা প্রসূত। মূলত রাঢ় বাংলা তাঁর আগ্রহের বিষয় এবং সেখানের লালমাটি লেখকের ভাবনার মূল আশ্রয়। তাঁর দু-তিনটি উপন্যাসের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গের অন্তর্গত বাঁকুড়া জেলার চালচিত্র লক্ষ্য করা যায়।