রবীন্দ্র মানসে বৈদিক যুগের সামাজিক পরিবেশ

Author(s): Dr. Jayanta Nandi
Assistant Professor
Govt. General Degree College, Ranibandh 
Bankura, West Bengal, India
Email: jayantand41@gmail.com
Page no: 317-323

Abstract: রবীন্দ্রমানসে বৈদিক যুগ যেন এক চিরন্তন সুরের প্রতিধ্বনি। ঋগ্বেদের ঋষিমুখরিত ভোরের আলো, অগ্নির শিখায় নিবেদিত মানবমনের আকাঙ্ক্ষা, আকাশ-বাতাস-নদী-পাহাড়ের সঙ্গে মানুষের গভীর আত্মীয়তা—এসবই তাঁর কল্পনায় রূপ পেয়েছে নিত্যবর্তমান সত্যে। রবীন্দ্রনাথ বৈদিক সমাজকে দেখেছেন কেবল প্রাচীনতার ছায়ায় নয়, বরং মানবচিত্তের জাগরণ, প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য, এবং বিশ্বমানবতার প্রথম বীজরূপে। সেই সমাজের মানুষ ধর্মে খুঁজেছিল প্রকৃতির অন্তর্লীন সৌন্দর্য, যজ্ঞে পেয়েছিল সমবেত প্রাণের উচ্ছ্বাস, আর গানে খুঁজেছিল মহাজাগতিক ঐক্যের ডাক। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভেদরেখা ও আচারবদ্ধতার বাঁধন দৃঢ়তর হয়েছিল, তবু রবীন্দ্রদৃষ্টিতে বৈদিক সমাজ ছিল আলো ও মুক্তির প্রথম অধ্যায়—যেখানে মানুষ নিজেকে মহাবিশ্বের অন্তহীন স্রোতে সংযুক্ত করতে শিখেছিল।
রবীন্দ্রনাথ বৈদিক সমাজকে কেবল একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে দেখেননি, বরং মানবজাতির সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক আত্মসন্ধানের উৎস হিসেবে অনুধাবন করেছেন। তাঁর মতে বৈদিক যুগের সামাজিক পরিবেশ ছিল প্রকৃতিনির্ভর, সরল ও সমন্বয়মুখী, যেখানে মানুষের জীবনধারা প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত এবং কর্তব্যবোধ ও নৈতিকতার উপর প্রতিষ্ঠিত। এই গবেষণায় মূলত তিনটি দিক আলোচিত হয়েছে— (ক) বৈদিক যুগের সামাজিক কাঠামো সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গি, (খ) সেই দৃষ্টিভঙ্গির আধুনিকতায় প্রয়োগ ও প্রাসঙ্গিকতা, এবং (গ) ভারতীয় সংস্কৃতির চেতনায় বৈদিক উত্তরাধিকারকে তিনি কিভাবে সর্বজনীন মানবিকতার ভিত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। ফলত, রবীন্দ্র মানসে বৈদিক সমাজ একদিকে আধ্যাত্মিকতার সূতিকাগার, অন্যদিকে আধুনিক মানবতাবাদী চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য উৎস।
অতএব, রবীন্দ্র মানসে বৈদিক যুগ কেবল একটি অতীত নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য একটি সাংস্কৃতিক বীজভূমি। এই গবেষণায় প্রতিফলিত হয় যে, রবীন্দ্রনাথ বৈদিক সমাজকে নতুন আলোয় ব্যাখ্যা করেছেন—যেখানে মানবতাবাদ, সামগ্রিক জীবনবোধ ও বিশ্বজনীন চেতনা একাত্ম হয়ে ওঠে।

Keywords: বেদ, উপনিষদ, বৈদিক সমাজ, রবীন্দ্র সাহিত্য, ভূমা, সমবায় নীতি, পল্লিসমাজ।

Scroll to Top